‘Chiropactic’ একটি সর্ব শ্রেষ্ঠ ব্যথা নাশক চিকিৎসা পদ্ধতি
‘কাইরোপ্র্যাকটিক’ শব্দটি গ্রিক
শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ “হাতের দ্বারা চিকিৎসা”, এবং এবং একজন কাইরপ্র্যাক্টিক চিকিৎসক তাঁদের হাত ব্যবহার করে শরীরের
বিভিন্ন অংশে সঞ্চালন করেন এবং রুগীকে সুস্থ করে তুলেন। বর্তমানে, কাইরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তৃতীয়
বৃহত্তম শাখা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাইরোপ্র্যাকটিক চিকিৎসার মূল কয়েকটি ভিত্তি হল -
১. শরীরের সমস্ত কার্যকলাপ পরস্পর সংযুক্ত এবং আরোগ্য
লাভের প্রক্রিয়ায় সমগ্র শরীর জড়িত থাকে।
২. একটি সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র, বিশেষ করে মেরুদণ্ড, একটি সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি। সুষুম্নাকাণ্ড
সারা শরীরে তথ্য বহন করে এবং ঐচ্ছিক নড়াচড়া (যেমন হাঁটা) ও অনৈচ্ছিক কার্যকলাপ
(যেমন শ্বাস-প্রশ্বাস) সহ সমস্ত শারীরিক কার্যকলাপের জন্য দায়ী।
৩. যখন শরীরের বিভিন্ন তন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ
থাকে,
তখন তাকে হোমিওস্ট্যাসিস (Homeostasis) বলা
হয়। হাড়, পেশী এবং স্নায়ুর সমস্যা হোমিওস্ট্যাসিসকে ব্যাহত
করতে পারে এবং রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৪. যখন শরীরের তন্ত্রগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ (Harmony) থাকে, তখন মানবদেহের স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং
নিজেকে নিরাময় করার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে।
কাইরোপ্র্যাকটি
চিকিৎসায় মেরুদন্ড বা Spine’কে সব
থেকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়
কারণ, আমাদের সারা শরীরের প্রতিটি
কার্যকলাপ স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মস্তিষ্ক থেকে শরীরের প্রতিটি অংশে
পরিবাহিত স্নায়বিক সংকেতের মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্গ, কলা এবং
কোষ নিয়ন্ত্রিত হয়। স্নায়ুর কারণেই দৃষ্টি, ঘ্রাণ,
স্বাদ, স্পর্শ এবং শ্রবণশক্তি সম্ভব হয়।
স্নায়ু আপনার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং আপনার শরীরের তাপমাত্রা ৩৭.৬ ডিগ্রিতে
রাখে। স্নায়ু আপনার যকৃত, ফুসফুস, প্লীহা,
অগ্ন্যাশয়, পিত্তথলি, বৃক্ক
এবং অন্যান্য সমস্ত অঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রকৃতপক্ষে, স্নায়ুতন্ত্রই হলো প্রধান যা গ্রন্থি,
প্রজনন, পরিপাক, বর্জ্য
নিষ্কাশন, শ্বসন এবং সংবহনতন্ত্র সহ সমগ্র শরীরের অন্যান্য
সমস্ত তন্ত্র বা সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে। সম্পূর্ণ
নিখুঁত স্বাভাবিক স্বাস্থ্য তখনই আসে যখন আমাদের এই স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক ভাবে কাজ
করতে পারবে।
তাই, একজন কাইরোপ্র্যাক্টিক চিকিৎসকের মূল
বিষয় হল মেরুদণ্ড, কারণ এটি সুষুম্নাকাণ্ডকে ধারণ ও রক্ষা
করে – যা হলো স্নায়ুতন্ত্রের সুইচবোর্ড, যার মাধ্যমে স্নায়ু মস্তিষ্ক থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয়। কশেরুকা
বা Vertebra নামক সচল মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁক
দিয়ে স্নায়ুগুলো মেরুদণ্ড থেকে বেরিয়ে আসে। যখন এই কশেরুকাগুলো তাদের সঠিক অবস্থান থেকে সরে যায়, তখন স্নায়ুর
স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটাতে শুরু করে। এই ব্যাঘাত
সারা শরীরের কার্যকলাপকে ব্যাহত করে এবং অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একজন কাইরোপ্র্যাক্টিক চিকিৎসক কিছু বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে
মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন ও রুগীর ব্যথা যেমন তাড়াতাড়ি কমিয়ে আনেন
তেমনি অন্যান্য রোগ ব্যাধিও দূরে সরাতে পারেন।


